উত্তরপ্রদেশের হাথরাস রুহেরি বাইপাসের কাছে একটি ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, একজন বৃদ্ধ মুসলিম চায়ের বিক্রেতাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তার দোকানের ব্যানার সরানোর জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ ওঠেছে, হিন্দু সংস্থার কিছু কর্মী দোকানের নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।
বৃদ্ধ চায়ের বিক্রেতা শামশের খান দীর্ঘদিন ধরে তার দোকান “কুন্দন টি স্টল” নামে চালিয়ে আসছিলেন। ব্যানারে লেখা ছিল “বাবা শামশের” নামও। রাশট্রিয় স্বভিমান দল নামে একটি সংগঠনের নেতা দীপক শর্মার নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী দোকানদারকে বলেন, তিনি হিন্দু সংক্রান্ত নাম ব্যবহার করে নিজের পরিচয় লুকিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, দীপক শর্মা বলেন, “অ্যাব্বা তোমাকে শামশের নামে নামকরণ করেছেন, আর দোকানের নাম থাকবে কুন্দন?”
বৃদ্ধ দোকানদার যখন মানতে অস্বীকার করেন, তখন এক কর্মী ধারালো জিনিস দিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাতে বাধা দেননি, বরং তারা ওই দলের সঙ্গে কথা বলছেন এবং ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।শামশের খান দৃশ্যত ভীত ও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, তিনি কিছু ভুল করেননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃদ্ধ মানুষটি তার ছোট্ট ব্যবসা চালাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এমন আচরণে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
স্থানীয়রা এবং আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, “কুন্দন” নাম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনও আইনগত বাধা নেই। এটি সাধারণ হিন্দি-উর্দু শব্দ, যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো ধর্মের একচেটিয়া নয়। ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ভিডিও রেকর্ডিং বাধা দেওয়ার চেষ্টা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেশীরা বলেন, এমন আচরণ মুসলিম ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর বাড়তি চাপের একটি উদাহরণ।


