নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র ধর্মীয় আচরণ পালনকে কেন্দ্র করে তরুণ পড়ুয়াদের অপরাধীর আসনে বসানো ঠিক নয়—তা তাদের ভবিষ্যতের উপর অযথা ছাপ ফেলতে পারে।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের একটি জেলার। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি ছিল, নির্দিষ্ট একটি স্থানে প্রার্থনা করার অনুমতি ছিল না। তবু সেখানে নামাজ পড়ায় আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে। নিম্ন আদালতে সেই মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।
হাই কোর্টে শুনানির সময় ছাত্রদের আইনজীবী জানান, তাঁদের মক্কেলদের কোনও অপরাধমূলক অতীত নেই। তাঁরা কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনা করেছিলেন। এই ধরনের মামলা তাঁদের উচ্চশিক্ষা, চাকরির পরীক্ষা কিংবা পাসপোর্টের মতো নানা ক্ষেত্রে সমস্যায় ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কাও আদালতে তুলে ধরা হয়।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজের ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সেই অধিকারের সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে আদালত এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রশাসনের জারি করা নির্দেশ মানা সকলের দায়িত্ব। আইন ভাঙার কোনও সুযোগ নেই, কিন্তু আইনের প্রয়োগও হতে হবে সংযত ও যুক্তিসঙ্গত।
সব দিক খতিয়ে দেখে আদালত অভিযোগপত্র, সমন-সহ পুরো মামলাই বাতিল করে দেয়। তবে ভবিষ্যতে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের।
আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছে, এই রায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল। একই সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতের সংবেদনশীল অবস্থানও স্পষ্ট হল।


