নয়ডার সেক্টর ১৫এ-র বৃন্দাবন পার্ক। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই পার্কই এলাকাবাসীর সকাল-বিকেলের ভরসা। প্রবীণ মানুষদের হাঁটা, শিশুদের খেলাধুলো, পাড়ার আড্ডা—সব মিলিয়ে এক টুকরো সবুজ আশ্রয়। সেই পার্কের জমিতে মন্দির তৈরির প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এ বার এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
দুই শতাধিক বাসিন্দা যৌথভাবে রিট পিটিশন দায়ের করে অভিযোগ করেছেন, যে জমিটি বহু বছর ধরে ‘পাবলিক গ্রিন স্পেস’ হিসেবে চিহ্নিত, সেটিকে অন্য কাজে ব্যবহার করতে গেলে নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া মানা বাধ্যতামূলক। তাঁদের দাবি, জমির শ্রেণিবদল, পরিবেশগত সমীক্ষা কিংবা জনমত সংগ্রহ—কোনও কিছুই স্বচ্ছভাবে সামনে আনা হয়নি।
গত সপ্তাহে পার্কের ভিতরে হঠাৎ একটি বোর্ড দেখা যায়—‘প্রস্তাবিত ধর্মীয় স্থান’। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রথম বোর্ডে সরকারি কোনও সিলমোহর ছিল না। পরে আপত্তির মুখে আরেকটি বোর্ড বসানো হয়, যাতে কর্তৃপক্ষের নাম ছিল। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা পর্যন্ত গড়ায়, থানায় অভিযোগও দায়ের হয়।
পার্ক রক্ষার পক্ষে থাকা বাসিন্দাদের বক্তব্য, “এটা কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়। আমরা শুধু জানতে চাই, আইন মেনে সব কিছু হচ্ছে কি না।” তাঁদের কথায়, প্রায় ২০০টি পূর্ণবয়স্ক গাছ রয়েছে এই পার্কে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন খোলা জায়গা কমে গেলে বায়ুদূষণ ও নিরাপত্তা—দুই নিয়েই সমস্যা বাড়বে।
মাধবী মিশ্র নামে এক বাসিন্দা বলেন, “এই পার্ক শুধু গাছপালা নয়, আমাদের বয়স্ক বাবা-মায়েদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এখানে তাঁরা নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারেন।” আর এক তরুণ বাসিন্দার কথায়, “শৈশব কেটেছে এই মাঠে। এখন আমার সন্তানেরাও এখানে খেলে। হঠাৎ করে সব বদলে গেলে মানিয়ে নেওয়া কঠিন।”
পার্ক বাঁচাতে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হয়েছে। রবিবার পার্কে একটি সর্বজনীন পিকনিকের আয়োজনও করা হয়েছে, যাতে সব বয়সের মানুষ অংশ নেবেন। আয়োজকদের বক্তব্য, “সবুজ বাঁচানো মানে সমাজ বাঁচানো।”
অন্য দিকে, প্রস্তাবের সমর্থকরাও সক্রিয়। তাঁদের দাবি, এলাকায় একটি ধর্মীয় স্থানের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও বিরোধীরা বলছেন, আশপাশে ইতিমধ্যেই একাধিক মন্দির আছে।
এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হলে বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সবার। তবে আপাতত স্পষ্ট—নয়ডার এক পুরনো পাড়ায় সবুজ জমিকে ঘিরে টানাপোড়েন থামার লক্ষণ নেই।


