Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

ধর্ষণ মানতে নারাজ বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ের হাইকোর্ট! আসামির সাজা কমায় প্রতিবাদে সরব ‘সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি’

ছত্তিশগড়ে বহু বছর আগের এক ধর্ষণ মামলার রায়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রায় বাইশ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সেই সাজা কমিয়ে তিন বছর ছয় মাস করেছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, এটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ষণ নয়, বরং ধর্ষণের চেষ্টা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয় এবং মুখ বন্ধ করে কয়েক ঘণ্টা ধরে অত্যাচার চালানো হয়। পরে মেয়েটির মা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর এটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় পর মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শুনানির সময় নির্যাতিতা স্পষ্টভাবে আদালতে জানান, তার সঙ্গে কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। পরীক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসকরা আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করে নির্যাতিতার দেহ থেকে। তবু আদালত রায়ে জানায়, এইটিকে ধর্ষণ বলা যায় না, এইটা ধর্ষনের চেষ্টা। এই যুক্তির ভিত্তিতেই সাজা কমানো হয়েছে। এই রায়ের কড়া সমালোচনা করেছে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আদালত আইনের ভুল ব্যাখ্যা করেছে এবং এতে নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠবে। তাঁদের দাবি, বিজেপি সরকার যেন দ্রুত উচ্চতর আদালতে আবেদন করে। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট-এ যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। মহিলা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আগের বিভিন্ন রায়ে স্পষ্ট করেছে যে, ধর্ষণ প্রমাণের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রবেশ বাধ্যতামূলক নয়। সেইসব নির্দেশনা অগ্রাহ্য করেই এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্য মামলাগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং অপরাধীদের উৎসাহ জোগাতে পারে। রাজ্যের বিজেপি সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় এখনও কোনও আপত্তি জানায়নি। তবে সমাজের একাংশের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে শাস্তি কমানো ঠিক বার্তা দেয় না। নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দিল বিচার পেতে কত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। সব মিলিয়ে, এই রায় শুধু একটি মামলার সীমায় আটকে নেই। এটি দেশের নারী নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় প্রশাসন এবং উচ্চ আদালত।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories