বাংলা-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্যে বর্তমানে বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ধাপে ধাপে অন্যান্য রাজ্যেও এই কাজ শুরু হবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার অসম সফরে গিয়ে কড়া বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ থেকে সব অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অসমে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ দাবি করেন, যেভাবে দেশে মাওবাদ দমনে সাফল্য এসেছে, একইভাবে অনুপ্রবেশ সমস্যারও স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তার কথায়, শুধু ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, দেশের ভেতর থেকেও অবৈধভাবে বসবাসকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ দিন অসম পুলিশের ১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের নতুন ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সেই মঞ্চ থেকেই শাহ জানান, যে জমি একসময় বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছিল, তা উদ্ধার করেই সেখানে এই ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সম্পূর্ণভাবে দেশছাড়া করতে হবে। না হলে তারা অন্যত্র গিয়ে আবার বসবাস শুরু করবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, অসমে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চলছে। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে বহু পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মাঝেমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে রাজ্য থেকে কতজনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে তা উল্লেখ করেন। সম্প্রতি তার একটি বিতর্কিত মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে গুলি করার ছবিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অসমে শীঘ্রই বিধানসভা নির্বাচন। শাহ জানিয়েছেন, আবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার বক্তব্য, এই কাজের জন্য দৃঢ় মানসিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার, যা বর্তমান নেতৃত্বের রয়েছে।
এ দিনই রাজ্যের রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা ভূপেন বোরা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই দলবদল তাৎপর্যপূর্ণ এবং রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।


