সামাজিক মাধ্যমে যখন নানা জায়গা থেকে মুসলিমবিদ্বেষী কটূক্তি আর বিভাজনের সুর শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই এক মানবিক উদ্যোগে অন্যরকম বার্তা দিলেন পূর্ব বর্ধমানের এক গৃহবধূ। ধর্ম বা পরিচয়ের গণ্ডি যে মানুষের প্রাণের চেয়ে বড় নয়, তা নিজের কাজের মাধ্যমে দেখিয়ে দিলেন কেতুগ্রামের বাসিন্দা নিলুফা ইয়াসমিন।ঘটনাটি ঘটেছে পবিত্র রমযান মাসের শুরুতেই। সেদিন সারাদিন রোজায় ছিলেন নিলুফা। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসছিল। ঠিক সেই সময় খবর আসে, কাটোয়ার একটি ব্লাড ব্যাংকে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। মুর্শিদাবাদের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার অস্ত্রোপচার আটকে রয়েছে রক্তের অভাবে। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছিল। পরিবার দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে শুরু করে।এলাকার সমাজকর্মী কামাল উদ্দিন বিষয়টি জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ নিলুফার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানতেন, নিলুফা নিয়মিত রক্তদান করেন। রোজায় থাকলেও এক মুহূর্ত চিন্তা না করে সাহায্যের হাত বাড়ান নিলুফা। দ্রুত কাটোয়ার হেমরাজ ব্লাড ব্যাংকে পৌঁছে প্রথমে ইফতার সেরে নেন, তারপর রক্তদান করেন।ওই রক্ত পাওয়ার পরই চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার শুরু করতে পারেন। সফলভাবে সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। মা ও নবজাতক দু’জনেই এখন সুস্থ রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের কথায়, সঠিক সময়ে রক্ত না পেলে বড় বিপদ ঘটতে পারত।রমযান মাসে সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকেই রক্তদান এড়িয়ে চলেন। চিকিৎসকেরাও সতর্ক থাকতে বলেন। তবু জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিকতার ডাকই বড় হয়ে উঠেছিল নিলুফার কাছে। তিনি জানান, একজন মায়ের জীবন রক্ষা করা তার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হতেই কাটোয়া, কেতুগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় প্রশংসার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে নিলুফাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বিভেদের সময়ে এই ধরনের উদাহরণই মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়।নিলুফা ইয়াসমিনের এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রাণ বাঁচানো নয়, বরং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। ধর্ম-বর্ণের ভেদরেখা পেরিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাই আজকের সমাজে সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মত অনেকের।
মুসলিমবিদ্বেষের আবহে মানবতার নজির: রোজা রেখেই রক্ত দিয়ে মা ও শিশুকে বাঁচালেন কেতুগ্রামের নিলুফা ইয়াসমিন!
Popular Categories


