মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার নিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার জের এবার সরাসরি লেবাননে এসে পৌঁছেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, ইজরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।
হামলার লক্ষ্য ছিল রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠ এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা। দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন এবং বৈরুতের আশপাশে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হামলার পর চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইজরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলার জবাব দিতেই তারা লেবাননে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলার পেছনে রয়েছে হিজবুল্লাহ, যারা ইরানের হয়ে কাজ করছে এবং ইজরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘রোরিং লায়ন’ নামের অভিযানের আওতায় তারা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল।
ইজরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির ঘোষণা করেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু হয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, হাইফা শহরের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। তাদের দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, বারবার হামলা ও নেতাকর্মীদের হত্যার জবাব দিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। বেকা উপত্যকার বিনত জবেইলসহ একাধিক স্থানে মানুষকে নির্দিষ্ট ভবন থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইজরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, লেবানন অভিযোগ করেছে যে ইজরায়েল প্রায় প্রতিদিনই সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এ ধরনের কাজ দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবাননকে আর কোনও নতুন সংঘাতে জড়াতে দেওয়া হবে না এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


