পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ভয়াবহ এক ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক। ওমান উপকূলের কাছে, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে জাহাজটি ধ্বংস হয়ে যায়। সেই জাহাজের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন ভারতের এক নাগরিক। হামলার পর তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চলমান সংঘর্ষে এই প্রথম কোনও ভারতীয়ের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল। নিহতের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেই নি বরং দেশে ইরানের সমর্থনে কেউ কিছু মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই হামলার উৎস নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমেরিকার দাবি, কুয়েত থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভুলবশত ট্যাঙ্কারটিকে আঘাত করে। তবে অন্য একটি সূত্রের বক্তব্য, ইরানের দিক থেকে ছোড়া মিসাইলেই জাহাজটি ধ্বংস হয়েছে। ফলে ঠিক কোন পক্ষের হামলায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী নিজস্ব সিদ্ধান্তে মার্কিন মিত্র দেশগুলিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই বাহিনী সরাসরি ইরানের সেনাবাহিনীর অধীনে কাজ করে না। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় এই বিশেষ বাহিনী গড়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ইরানের রেড ক্রেসেন্ট সোসাইটির শাখা জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইতিমধ্যেই ইরানে প্রায় ৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারত সরকারও বিষয়টির উপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে।


