ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘাতের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
জানা গিয়েছে, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এটি ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ০.১ শতাংশের সমান। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে থাকা একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থার। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এই রাডারের মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। কাতার সরকারও রাডারটিতে আঘাতের কথা স্বীকার করেছে।
এর পাশাপাশি, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যদিও ছয়জন বিমানচালক প্রাণে বেঁচে যান, তবে বিমানগুলির ক্ষতি পূরণে আনুমানিক ২৮২ মিলিয়ন ডলার লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান তাদের প্রথম পাল্টা হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও আঘাত হানে। সেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ও কয়েকটি বড় ভবন ধ্বংস হয়। প্রতিটি টার্মিনালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুয়াইস শিল্পাঞ্চলে মোতায়েন থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার অংশও ধ্বংস হয়েছে বলে ইরানের দাবি। স্যাটেলাইট ছবিতে সেখানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এই রাডার অংশটির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
ইরান এখন পর্যন্ত বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থিত অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজানেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামরিক অংশেও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। স্যাটেলাইট চিত্রে কয়েকটি স্থাপনার ক্ষতি স্পষ্ট হয়েছে।
শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। কুয়েত শহরেও দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে চলমান এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।


