রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বামেরা। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবারেও অব্যাহত রয়েছে। দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে সরাসরি কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান তারা।
দফতরের বাইরে কালো ত্রিপল পেতে বসে থাকতে দেখা যায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সুজন চক্রবর্তী ও ‘ক্যাপ্টেন’ মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে। তাদের বক্তব্য, সাধারণ ভোটারদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকলে গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।
বুধবার টি বোর্ডের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিল শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছয়। সেখানে গিয়ে প্রতিনিধিরা মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের হাতে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তারা জানান, শীর্ষ আধিকারিক তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। পরিবর্তে অন্য এক কর্মকর্তার কাছে নথি জমা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্মারকলিপি সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাতেই তুলে দিতে চান তারা।
এরপরই তারা সিদ্ধান্ত নেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান চালিয়ে যাবেন। রাতভর স্লোগান ও প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি চলে। বহু সমর্থকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ গেলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তার কথায়, সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তার জবাব রাস্তাতেই দেওয়া হবে।
এদিন আন্দোলনে যোগ দেন এভারেস্টজয়ী পিয়ালী বসাকও। তিনি বলেন, করদাতাদের অর্থে সরকারি কর্মচারীদের বেতন হয়। সেই দায়িত্ব নিয়ে যদি সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তা হলে প্রশ্ন উঠবেই। তার দাবি, ভোটাধিকার কোনওভাবেই খর্ব করা চলবে না।
বাম নেতৃত্ব জানিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

