রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কেনার যে সুবিধা এতদিন পাচ্ছিল ভারত, তা এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া তেলের দাম অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের থেকেও বেশি দামে এখন রাশিয়ার তেল কিনতে হচ্ছে ভারতকে। এতে দেশের জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মাসের জন্য ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছাড় থেকেও বিশেষ সুবিধা পেল না ভারত। কারণ এই সময়েই রাশিয়া তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাধারণত উত্তর সাগরের ব্রেন্ট ক্রুডের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯২ ডলার। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে রাশিয়ার তেলের দাম এখন তার থেকেও বেশি পড়ছে।
এর আগে রাশিয়া ভারতকে ব্যারেল প্রতি ১৫ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিত। সেই কারণেই ভারত বিপুল পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনত। কিন্তু এখন সেই ছাড় তুলে নেওয়া হয়েছে। উল্টে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের থেকেও ব্যারেল প্রতি ৪ থেকে ৫ ডলার বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ১৪ লক্ষ ব্যারেল তেল আটকে পড়ে রয়েছে এবং তা অন্য কোথাও পাঠানো যাচ্ছে না। এই অবস্থায় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি—যেমন আইওসি এবং বিপিসিএল—বাধ্য হয়েই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। আর এই সুযোগেই দাম বাড়াচ্ছে রাশিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে আমেরিকার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে আমেরিকা ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে চাপ দেয়। পরে আবার এক মাসের জন্য ছাড় দেয়। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়, কারণ তারা জানে এই সময় অনেক দেশকেই তাদের কাছ থেকে তেল কিনতে হবে।
এছাড়াও যুদ্ধের কারণে তেলবাহী জাহাজকে আগের পথ ছেড়ে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ দিয়ে আসতে হচ্ছে। ফলে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। সেই সঙ্গে সামুদ্রিক বিমা ও অন্যান্য মাশুলও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, করোনার সময় রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে ভারত অনেক টাকা সাশ্রয় করতে পেরেছিল। সেই অর্থের একটি বড় অংশ করোনা ত্রাণে খরচ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল, ডিজেল এবং গ্যাসের দামের উপরও।


