আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক খুন এবং ধর্ষনের ঘটনার মামলাকে ঘিরে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সব মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার আদালতে জানানো হয়, এই মামলাগুলি আগে এই বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। সেই সময় এই বেঞ্চ মূলত ফৌজদারি সংক্রান্ত আবেদন শুনত। কিন্তু বর্তমানে আদালতের দায়িত্বের তালিকায় কিছু পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এখন আর এই ধরনের মামলা এই বেঞ্চে শুনানি হয় না। সেই কারণেই মামলাগুলি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এদিন জানান, মামলাটি শুনানির জন্য আদালতে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি প্রধান বিচারপতির কাছেও ই-মেল পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং এতে একাধিক দিক রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখতে সময় লাগবে। তাই এই বেঞ্চে দ্রুত শুনানি শেষ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছে আদালত। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সব মামলা অন্য বেঞ্চে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করবেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আবার মামলার তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।
তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাদের দাবি, তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাদের মতে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করা দরকার। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা।
এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরিবার হাইকোর্টে নতুন করে মামলা দায়ের করে। সেই মামলাতেই তদন্তের গতি বাড়ানো এবং পুরো ঘটনার পুনরায় খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। কিন্তু এখন সেই মামলাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সব মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে মামলার পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


