দিল্লির এক তরুণ ব্যবসায়ীর রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে ছড়াল চাঞ্চল্য । নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর মঙ্গলবার হরিয়ানার ফরিদাবাদের একটি জঙ্গলের এলাকা থেকে উদ্ধার হল ৩১ বছর বয়সি ব্যবসায়ী মহম্মদ আরিবের দেহ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিবাদের জেরেই তাকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির বাসিন্দা আরিব স্ক্র্যাপ বা পুরনো লোহালক্কড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, ৭ মার্চ তিনি ব্যবসার কাজে ফরিদাবাদে যাচ্ছেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় তার কাছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নগদ ছিল। এরপর থেকে আর তার কোনও খোঁজ মেলেনি। ফোনেও যোগাযোগ করা যায়নি।
পরিবারের লোকজন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর দিল্লির চাঁদনি মহল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে আরিব শেষবার এক যুবকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
জেরায় ওই যুবক পুলিশকে জানায়, তার মোবাইল ফোনটি সে কিছু সময়ের জন্য রাহুল নামে আর এক ব্যক্তিকে ব্যবহার করতে দিয়েছিল। রাহুল ফরিদাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বলে জানা যায়। এই তথ্য পাওয়ার পরই পুলিশ ফরিদাবাদে গিয়ে খোঁজ শুরু করে।
তবে পুলিশ যখন রাহুলের ভাড়া বাড়িতে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় তিনি আগেই সেখান থেকে চলে গিয়েছেন। পরে জানা যায়, তিনি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গেছেন। সেখান থেকে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
প্রাথমিক জেরায় রাহুল নাকি স্বীকার করেছে যে ফরিদাবাদেই আরিবকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় বাবু নামে আরও এক ব্যক্তি জড়িত বলে সে জানিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই রাহুল ও বাবুকে গ্রেফতার করেছে।
তদন্তকারীদের মতে, ব্যবসার নাম করে আরিবকে বল্লভগড় এলাকায় ডেকে আনা হয়েছিল। সেখানে তাকে বেঁধে ফেলে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। খুনের পর তার কাছে থাকা আড়াই লক্ষ টাকা ও স্কুটারও নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দেহটি ফরিদাবাদের একটি জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। দীর্ঘ সময় জঙ্গলে পড়ে থাকার কারণে দেহের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং বন্য প্রাণীর আক্রমণের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
ঘটনার তদন্তে অপহরণ সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। যেহেতু ঘটনাস্থল এবং দেহ উদ্ধারের জায়গা দুটিই ফরিদাবাদের মধ্যে পড়ছে, তাই পুরো মামলাটি এখন ফরিদাবাদ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতদেরও তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পিছনে থাকা কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


