Wednesday, July 22, 2026
26.1 C
Kolkata

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আশ্বস্ত করেও, রান্নার গ্যাসের ঘাটতিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ! চাপে হোটেল ও হাসপাতাল পরিষেবা

দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে হোটেল, হাসপাতাল ও ছোট ব্যবসার উপরও। অনেক এলাকায় সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহকারী দপ্তরের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা প্রতিবাদও করছেন। একই সঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলিতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে, যা পরিস্থিতির জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

গ্যাসের অভাবের কারণে হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। রোগীদের জন্য খাবার তৈরি করা বা নির্দিষ্ট ডায়েট সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্কুলগুলিতে শিশুদের জন্য ‘মিড ডে মিল’ তৈরি করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। অনেক জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।

এদিকে শহর ও মফস্বলের বহু ফাস্টফুডের দোকান একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই দোকানগুলির উপর অনেক কর্মহীন মানুষের জীবিকা নির্ভর করত। গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক দোকানদার বলছেন যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

গ্যাসের ঘাটতির ফলে বিকল্প রান্নার উপকরণের দামও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইনডাকশন কুকার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। তবে এগুলি কিনতে গেলে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি বিদ্যুতের বিলও বাড়বে বলে অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন। যারা কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন এবং ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করতেন, তাঁদেরও এখন সেই সিলিন্ডার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, সরকারি স্তরে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে বাস্তবে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার নিয়ম ভেঙে হোটেল বা দোকানে গার্হস্থ্য সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের তরফে তল্লাশি অভিযান চালানোর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। গ্যাস ডিলারদের গুদাম ও অফিসে নজরদারি বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে। ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুরের কয়েকটি সরকারি ক্যান্টিনে আপাতত গার্হস্থ্য সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না চালানো হচ্ছে। তবে সেখানকার কর্মীদের বক্তব্য, মজুত গ্যাস আর কয়েক দিন চলবে, তারপর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১৯৯০ টাকা। কিন্তু অনেক জায়গায় এর জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মও কঠোর করা হয়েছে। এখন সেখানে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী বুকিং করতে হলে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories