উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় একটি মসজিদ, একটি দরগা এবং কয়েকটি বাড়ি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। জেলার সাইফ খান সারাই গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় তহসিলদার আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিল না করা হলে সব নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। পাশাপাশি দুই ইমামের ওপর প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, গ্রামের কমিউনিটি জমির ওপর অবৈধভাবে ওই মসজিদ, দরগা এবং কয়েকটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। রাজস্ব দফতরের নথি অনুযায়ী, খাতা নম্বর ৪৫২–এর অধীনে প্রায় ০.১৩৪ হেক্টর জমি গ্রামের সাধারণ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং সেখানে গাছ লাগানোর কথা ছিল। সেই জমিতেই অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে।
এই মামলায় গ্রামের মসজিদের ইমাম আফতাব হুসেন ও মেহতাব হুসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, তারাই ওই জমিতে দখল নিয়ে নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আদালত জানিয়েছে, আগে জমিটি লিজে দেওয়া হলেও ১৯৭০-এর দশকে তা আবার গ্রামের কমিউনিটি জমি হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সেই কারণেই সেখানে কোনো স্থায়ী নির্মাণ আইনসম্মত নয় বলে আদালতের মত।
আদালতে ইমামদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, জমিটি ওয়াকফ বোর্ডের অন্তর্গত। তবে রাজস্ব নথি খতিয়ে দেখে আদালত সেই দাবি খারিজ করে দেয়। তহসিলদার ধীরেন্দ্র কুমার সিং জানান, সব নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না হলে প্রশাসন কাঠামো ভেঙে ফেলবে এবং জরিমানার অর্থও আদায়ের ব্যবস্থা করবে।
আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইমাম আফতাব হুসেন। তার বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের জরিমানা দেওয়া তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তারা গ্রামের মানুষের জন্য নামাজ পড়িয়েছেন এবং সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে, ইমাম মেহতাব হুসেনও বলেন, বহু বছর ধরে গ্রামের মানুষ ওই মসজিদ ও দরগায় নামাজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করে আসছেন। তাদের বিশ্বাস ছিল জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি। এখন হঠাৎ করে উচ্ছেদের নির্দেশে পুরো গ্রাম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলির ওপরই বেশি করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, অন্য অনেক সম্প্রদায়ের নির্মাণও সরকারি জমিতে রয়েছে, কিন্তু সেখানে তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
প্রায় ছয় মাস আগে একজন স্থানীয় আধিকারিক উত্তরপ্রদেশ রাজস্ব আইনের ধারা ৬৭ অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করার পর এই মামলার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ শুনানির পর তহসিলদার আদালত উচ্ছেদের নির্দেশ দেয় এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানাও ধার্য করে।


