রাজস্থানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া কাশ্মীরের একদল পড়ুয়ার গ্রেপ্তার ও জেলে হেনস্তার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের পড়াশোনার কোর্সের স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি চিত্তৌড়গড় জেলার মেওয়ার ইউনিভার্সিটি-কে ঘিরে। সেখানে নার্সিং বিভাগে পড়া কয়েকজন কাশ্মীরি পড়ুয়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কোর্সটির স্বীকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইছিলেন। পড়ুয়াদের বক্তব্য, বহুবার জানানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে বসেন।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত ৯ মার্চ আচমকা পুলিশ এসে কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, সতেরো জন পড়ুয়ার নাম ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া এক পড়ুয়ার দাবি, আটক থাকার সময় তাঁদের জেলের শৌচাগার পরিষ্কার করা ও নর্দমা থেকে ময়লা তোলার মতো কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কোনও ধরনের সরঞ্জাম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, খালি হাতেই এই কাজ করতে হয়েছে, যা তাঁদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক অভিজ্ঞতা।
পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, সেই সময় অনেকেই রোজা রাখছিলেন। তবু পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি। সহবন্দিদের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য খাবার দিয়েই সেহরি ও ইফতার করতে হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কাশ্মীরে পড়ুয়াদের পরিবারগুলির মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীনগরে অভিভাবকেরা প্রতিবাদে সামিল হয়ে বলেন, তাঁদের সন্তানরা প্রায় চার বছর ধরে পড়াশোনা করছে। এখন যদি কোর্সের স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে এতদিনের পরিশ্রম ও খরচ সবই বিফলে যাবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে জম্মু কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোর্সের অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই সমস্যার কোনও চূড়ান্ত সমাধান সামনে আসেনি।
ঘটনাকে ঘিরে রাজস্থান ও কাশ্মীর—দুই জায়গাতেই উদ্বেগ বাড়ছে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

