গাজার অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক দম্পতি এবং তাদের দুই ছোট সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর পশ্চিম তীরের তাম্মুন শহরে। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জানা গিয়েছে, আলি বানি ওদেহ এবং তার স্ত্রী ওয়াদ বানি ওদেহ শনিবার নিজেদের গাড়িতে করে তাম্মুন শহরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাদের সঙ্গে ছিল তাদের চার সন্তান। হঠাৎই সেখানে উপস্থিত ইসরায়েলি বাহিনী তাদের গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দম্পতি এবং তাদের দুই ছোট সন্তানের মৃত্যু হয়।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আলি ও ওয়াদ বানি ওদেহ এবং তাদের দুই ছেলে—পাঁচ বছরের মোহাম্মদ ও সাত বছরের ওসমান। চারজনকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাদের মাথা ও মুখে গুরুতর গুলির আঘাত ছিল।এই ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সন্তান বেঁচে গেছে। তাদের বয়স আট এবং এগারো বছর। তারা গাড়িতেই ছিল এবং পুরো ঘটনাটি সামনে থেকে দেখে। গুলির সময় ছিটকে আসা ধাতব টুকরোয় তারা সামান্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই সময় শহরে সেনা ও সীমান্ত পুলিশের যৌথ অভিযান চলছিল। তাদের দাবি, গাড়িটি দ্রুত গতিতে বাহিনীর দিকে এগিয়ে আসছিল। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের ঝুঁকিতে মনে করে গুলি চালায়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গুলিতেই গাড়িতে থাকা চার ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট অভিযোগ করেছে, গুলির পর তাদের চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী প্রথমে বাধা দেয় এবং এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা ঘটনাস্থলে যেতে পারে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সেনা তৎপরতা এবং সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা অনেক বেড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তরের হিসাব বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে অন্তত ১০৬৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২৩১ জন শিশু রয়েছে। এই ঘটনার পর আবারও ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Popular Categories


