রাজ্যে ভোটের ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাতেই কমিশন জানিয়ে দেয়, রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। একই সঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রা ঘোষকে।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এই সময়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা থাকে। প্রয়োজনে রাজ্যের আমলা, পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বদলি করার অধিকারও কমিশনের রয়েছে। অতীতেও ভোটের আগে বিভিন্ন জেলা পুলিশের সুপার বা বড় পদে থাকা সরকারি আধিকারিকদের বদলির নজির রয়েছে। এমনকি কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও বদল করা হয়েছে আগের নির্বাচনের সময়। তবে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে একসঙ্গে পরিবর্তনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা দেখা যায়নি বলেই প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলা দুষ্মন্ত নারিওয়ালা ১৯৯৩ সালের আইএএস ব্যাচের অফিসার। তিনি এতদিন রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবে কাজ করছিলেন। এর আগে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সেচ দফতরের কাজও দেখেছেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যে তাঁকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে, নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সংঘমিত্রা ঘোষ। তিনি ১৯৯৭ সালের ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক। এতদিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন। ওই দফতরে থাকাকালীন নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার তাঁকেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংঘমিত্রা ঘোষকেও সোমবার বিকেল ৩টার মধ্যে নতুন দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নন্দিনী চক্রবর্তী এবং জগদীশ প্রসাদ মিনাকে কোনওভাবেই নির্বাচনী সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা যাবে না। ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।


