ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই আবহেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানালেন বরখাস্ত হওয়া নেতা আরাবুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তিনি নতুনভাবে নিজের রাজনৈতিক পথচলা শুরু করতে চান। অতীতে একাধিকবার দল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এর আগে বেশ কয়েকবার তাঁকে দল থেকে সরানো হয়েছে, ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আর আগের মতো নেই।
দীর্ঘদিন ধরেই দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। অবশেষে বিধানসভা নির্বাচনের সূচি প্রকাশের পরই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল, যেখানে ১৫২টি আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফা অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল, সেখানে ভোটগ্রহণ হবে ১৪২টি আসনে। ৪ মে নির্ধারিত হয়েছে ভোটগণনার দিন।
প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের একাধিক জেলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট হবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর এত কম দফায় নির্বাচন হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। অতীতে ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বহু দফায় ভোট হয়েছিল, কিন্তু এবার তুলনামূলকভাবে কম ধাপে ভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, একইসঙ্গে আরও চারটি রাজ্যের নির্বাচনের দিনক্ষণও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে এক দফাতেই ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে ভোট হবে ৯ এপ্রিল, আর তামিলনাড়ুতে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে ২৩ এপ্রিল। সব রাজ্যের ফল প্রকাশ হবে ৪ মে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পাঁচটি রাজ্য মিলিয়ে মোট ৮২৪টি বিধানসভা আসনে ভোট হবে এবং প্রায় সাড়ে ১৭ কোটির বেশি ভোটার এতে অংশ নেবেন। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৮ লক্ষ ৫০ হাজার নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে এবং প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।


