দিল্লির উত্তম নগর এলাকায় ঈদের আগে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর)। রবিবার তারা দিল্লি পুলিশের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে সতর্ক করেছে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য, পোস্টার এবং জমায়েতের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে জে জে কলোনি এলাকায় এই ধরনের কার্যকলাপ বেশি চোখে পড়ছে বলে অভিযোগ।
এপিসিআরের দাবি, গত ৪ মার্চ দুই পরিবারের মধ্যে একটি সাধারণ বিবাদ থেকে এই পরিস্থিতির সূত্রপাত। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার পর কিছু অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তবে সংগঠনের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ঝামেলাকে এখন ইচ্ছাকৃত ভাবে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যম এবং কিছু স্থানীয় সভায় এমন বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে, উত্তম নগরে মুসলিমরা ঈদ উদযাপন করতে পারবে না। এমনকি কিছু বার্তায় হোলির দিন মুসলিমদের সঙ্গে জোর করে রং খেলার কথাও বলা হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
এছাড়া এলাকায় কিছু পোস্টারও দেখা গেছে, যেখানে ২০ মার্চ হোলি উদযাপনের ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই একই দিনে এই বছর ঈদ পড়েছে। ফলে দুই উৎসব একই দিনে পড়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জে জে কলোনির ঈদগাহে প্রতি বছর আশপাশের বহু মানুষ একত্রিত হয়ে নামাজ পড়েন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে এপিসিআর দিল্লি পুলিশের কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছে। পাশাপাশি সমাজ মাধ্যমে ছড়ানো উসকানিমূলক বার্তাগুলির বিরুদ্ধে সাইবার সেলেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থাও করার আবেদন জানানো হয়েছে। এপিসিআর আরও জানিয়েছে, তারা পুলিশের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা জানাতে বলেছে।


