বিজেপি সম্প্রতি তাদের প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মোট ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দিল্লি থেকে এই তালিকা হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় জানানো হয়। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই তালিকায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। সবচেয়ে কম সংখ্যক নারী প্রার্থী রাখা হয়েছে। মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন মহিলা রয়েছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত তিনজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থীকে এবার জায়গা দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দলের ভেতরেও এই তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ও চর্চা চলছে। কয়েকজন পরিচিত ও সক্রিয় বিধায়কের নাম এবার তালিকায় নেই। তাদের মধ্যে আছেন অশোক লাহিড়ী, সৌমেন রায়, মধুসূদন বাগ, হিরণ চ্যাটার্জি ও বিবেকানন্দ বাউরি। এদের অনেকেই আগের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাদের বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, কিছু পুরনো মুখ আবার দলে ফিরেছে। দিলীপ ঘোষের নাম নতুন তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে তাঁকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই আসনেই প্রার্থী করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
খড়গপুর সদরের আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে আগে যিনি প্রার্থী ছিলেন, তাঁকে এবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর জায়গায় দিলীপ ঘোষকে আনা হয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়েও বিভিন্ন মত শোনা যাচ্ছে।
অশোক লাহিড়ী প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। দল যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবেই কাজ করেছেন। তবে নতুন তালিকা প্রকাশের আগে তাঁর সঙ্গে চূড়ান্তভাবে কোনো আলোচনা হয়নি বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, দলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।
দলের পক্ষ থেকে যদিও সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলগত দিক বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন মুখ আনার পাশাপাশি কিছু অভিজ্ঞ নেতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও সাংগঠনিক ভারসাম্য, কোথাও স্থানীয় সমীকরণ—এসব বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রার্থী তালিকায় রাজ্যের প্রায় সব জেলার নাম রয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ, সব জায়গার জন্য আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বহু নতুন মুখের পাশাপাশি অনেক পরিচিত নেতাও রয়েছেন। তফসিলি জাতি ও উপজাতির জন্য সংরক্ষিত আসনেও নির্দিষ্ট প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকা প্রকাশের পর দলীয় কর্মীরা নিজেদের এলাকায় প্রস্তুতি শুরু করেছেন। প্রচার কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রার্থীরাও জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে এই তালিকা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সক্রিয় করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিজেপির এই প্রার্থী ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কে থাকলেন, কে বাদ পড়লেন—এই নিয়েই এখন চর্চা চলছে বিভিন্ন স্তরে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই এই আলোচনার মাত্রা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।


