আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে বিতর্ক এবার গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলার শুনানিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সামনে এল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি উঠলে রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ইডির দায়ের করা মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ইডি যে জবাবি হলফনামা জমা দিয়েছে, তাতে নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে। সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে রাজ্যকে আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা বিস্তারিত জবাব দিতে পারে।
এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতিদের বেঞ্চ রাজ্যের কাছে জানতে চায়, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং হস্তক্ষেপ কতটা যুক্তিসঙ্গত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্ত চলাকালীন এ ধরনের হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে কাজ করবে, সেটাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা রাজ্যের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আগের শুনানির পর অনেক সময় দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার সময় চাওয়া হচ্ছে, যা অযথা বিলম্বের কৌশল বলেই মনে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদন্তে বাধা দিয়েছেন, অথচ পরে সময় চাওয়ার আবেদন করছেন।
সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট এদিন রাজ্যের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়, যেখানে ইডির তল্লাশি সংক্রান্ত মামলায় স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি রাজ্যের পক্ষ থেকে এই মামলাটি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কলকাতায় প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই তল্লাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি দখল করার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই কারণেই তিনি সেগুলি নিজের হেফাজতে নিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইডি ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে নথি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।


