দেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পরও চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে—এই উদ্বেগজনক ছবি সামনে আনল আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা। ‘স্টেট অব ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৬.৩ কোটি স্নাতকদের মধ্যে প্রায় ১.১ কোটি বেকার অবস্থায় রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ করার পর এক বছরের মধ্যে স্থায়ী বেতনের চাকরি পান খুবই কম সংখ্যক স্নাতক। যারা বেকার হিসেবে নিজেদের নথিভুক্ত করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ এক বছরের মধ্যে স্থায়ী চাকরি জোগাড় করতে পারেন। ফলে উচ্চশিক্ষা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থানের অভাব বড় সমস্যার আকার নিচ্ছে।বয়সভিত্তিক হিসাবেও বেকারত্বের হার বেশ উদ্বেগজনক। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ স্নাতক বেকার। অন্যদিকে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার প্রায় ২০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে স্নাতকদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি।সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হওয়ার হারও বেড়েছে। ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নতুন স্নাতক কর্মবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে চাকরির সুযোগ না থাকায় বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে।তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষার প্রসারে বড় অগ্রগতি হয়েছে। লিঙ্গ বা সামাজিক বিভাজনের ভিত্তিতে শিক্ষায় প্রবেশের বাধা কিছুটা কমেছে। এর ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি দক্ষ ও শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মক্ষেত্রে আসছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই শিক্ষিত তরুণদের জন্য স্থায়ী ও ভালো বেতনের কাজের সুযোগ যথেষ্ট নয়। স্কুল থেকে কাজের জগতে প্রবেশের পথ অনেকের কাছেই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। অনেকেই সাময়িক বা কম বেতনের কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে এই প্রতিবেদনে। ২০১৭ সালে যেখানে প্রায় ৩৮ শতাংশ তরুণ পুরুষ শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ২০২৪ সালের শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে। অনেকেই সংসারের আর্থিক চাপের কারণে পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০১৭ সালে যেখানে ৫৮ শতাংশ ছাত্র এই কারণ দেখাতেন, ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৭২ শতাংশে পৌঁছেছে।২০০৪-০৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লক্ষ নতুন স্নাতক তৈরি হলেও, তার মধ্যে মাত্র ২৮ লক্ষের মতো কাজ পেয়েছেন। ফলে বেকারত্বের সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে এবং আয়ের বৃদ্ধিও মন্থর হয়েছে। সব মিলিয়ে, শিক্ষার প্রসার ঘটলেও কর্মসংস্থানের অভাব দেশের তরুণ প্রজন্মের সামনে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শীঘ্রই প্রয়োজন।
Popular Categories


