ইরানকে ঘিরে চলতে থাকা সংঘাতের মাঝেও হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বরং সীমিতভাবে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে, এমনটাই জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত। সাম্প্রতিক সামুদ্রিক ও বাণিজ্য তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৯০টি জাহাজ, যার মধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারও রয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পেরিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরুতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় প্রায় ২০টি জাহাজের ওপর হামলার খবর মিলেছে ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দিয়েছে।তবে এর মধ্যেও ইরান নিজেদের তেল রপ্তানি বন্ধ করেনি। তথ্য বিশ্লেষণ সংস্থাগুলির মতে, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৬০ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি করেছে তারা। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে চিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এই পরিস্থিতিকে কৌশলে ব্যবহার করছে। একদিকে তারা তেল বিক্রি করে আয় করছে, অন্যদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নিজেদের রপ্তানির রাস্তা সচল রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কিছু জাহাজ বিশেষ কৌশলে এই পথ ব্যবহার করছে।সমুদ্রপথ সংক্রান্ত সংস্থা লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে অন্তত ৮৯টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। এই জাহাজগুলির মধ্যে অন্তত এক-পঞ্চমাংশ ইরানের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া চিন ও গ্রিসের সঙ্গেও যুক্ত কিছু জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে।এর পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত জাহাজও সম্প্রতি এই প্রণালী পার হয়েছে। পাকিস্তানের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘করাচি’ এই পথ ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত শিপিং কর্পোরেশনের এলপিজি বহনকারী ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের দুটি জাহাজও মার্চের মাঝামাঝি এই পথ দিয়ে গিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পরই এই জাহাজগুলি নিরাপদে পার হতে পেরেছে। একইভাবে ইরাকও তাদের তেলবাহী জাহাজের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিছু ক্ষেত্রে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে এই জাহাজগুলি চলাচলের অনুমতি পাচ্ছে। এমনও দেখা গেছে, কিছু জাহাজ নিজেদের চিনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিচ্ছে, যাতে হামলার ঝুঁকি কমে। এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকা কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে এবং ইরানের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী পার করল প্রায় ৯০টি জাহাজ, তেলের রফতানি চালিয়ে যাচ্ছে ইরান
Popular Categories


