আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বালিগঞ্জে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ জমে উঠছে। এই কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন তরুণ মুখ আফরিন বেগম। ভোটের ময়দানে নামার পর থেকেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এই নির্বাচনে কোনও ব্যক্তি বা দল নয়, আসল গুরুত্ব রয়েছে সাধারণ মানুষের।আফরিন মনে করেন, প্রতিপক্ষ হিসেবে যাঁরা রয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপির ডঃ শতরূপা—তাঁদের কেউকেই আলাদা করে ‘হেভিওয়েট’ বলা ঠিক নয়। বরং এই কেন্দ্রের বাসিন্দারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি জানান, মানুষের সমস্যার পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর বক্তব্য, তিনি কোনও হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্তে রাজনীতির মাঠে নামেননি, বরং প্রস্তুতি নিয়েই লড়াইয়ে নেমেছেন। রাজ্যের মানুষ যে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কাজের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট—এসব বিষয়কেই তিনি সামনে আনতে চান। বালিগঞ্জও এই সমস্যাগুলির বাইরে নয় বলেই তাঁর দাবি।প্রচারের মূল ইস্যু কী হবে, সে বিষয়ে আফরিন বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার দিকে। তাঁর অভিযোগ, অনেক নতুন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, ফলে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন এবং এই ইস্যু নিয়েই তিনি সরব হবেন বলে জানিয়েছেন।শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতিও তাঁর প্রচারের অন্যতম বিষয়। এলাকার একাধিক স্কুলে শিক্ষক স্বল্পতা ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে পড়াশোনার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। পাশাপাশি বস্তি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের ন্যূনতম পরিষেবার অভাব, বিশেষ করে শৌচালয় সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।এছাড়া রাজ্যের বহু শ্রমিক কাজের সন্ধানে বাইরে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, এই বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তাঁর মতে, রাজ্যে পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছেন। বালিগঞ্জে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকেই কেন্দ্র করে নিজের প্রচার গড়ে তুলতে চাইছেন আফরিন বেগম।
প্রতিপক্ষকে বড় শক্তি মনে না করলেও,কোন বিষয়কে সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলছেন বালিগঞ্জের বাম প্রার্থী আফরিন?
Popular Categories


