বিজেপি শাসিত রাজ্য হরিয়ানায় তিন বছরের এক শিশুকে ঘিরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় রাজ্য সরকার পরিচালিত পুলিশকে তীব্র ভৎসনা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এই মামলায় পুলিশের কাজ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সর্বোপরি তদন্ত অত্যন্ত অমানবিকভাবে করা হয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতিরা বলেন, তদন্তের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘটনাটিকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ, শুরুতে শাস্তিযোগ্য মামলায় এফ আই আর দায়ের করা হলেও, পরে উনিশের উদাসীনতা স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। এমন মর্মান্তিক নৃশংস মূলক ঘটনাকে তদন্ত করার সময় কেন পুলিশে গাফিলতি লক্ষ্য করা গেল, তা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে এবং এর ব্যাখ্যাও চায়।
ঘটনার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত মহিলা আইপিএস অফিসারদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে গুরগাঁও পুলিশের কাছে থাকা সমস্ত নথি দ্রুত ওই দলের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আদালত সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনও রকম গাফিলতি বা প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই মামলায় চিকিৎসকের ভূমিকাও বিতর্কের মুখে পড়েছে। জানা গেছে, শিশুটি হাসপাতালে যাওয়ার পর কী বলেছিল, তা নিয়ে চিকিৎসক প্রথমে একরকম তথ্য দেন, পরে আবার তা বদলে ফেলেন। আদালত এই আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে। এছাড়া, স্থানীয় শিশু কল্যাণ কমিটির কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের কিছু পদক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মত আদালতের। কেন ওই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্য হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের একটি আবাসনে ঘটে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষনের র্মান্তিক ঘটনা। জানা যাচ্ছে, এক পরিচিত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির উপর অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। পরে শিশুটি তার মাকে সব জানালে বিষয়টি সামনে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়।


