মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে একটি পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি।
খবর অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই জাহাজটির দিকে গুলি ছোড়া হয় বলে দাবি। জাহাজটি কন্টেনার বোঝাই ছিল। হামলার ফলে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। বড় ধরনের দুর্ঘটনাও এড়ানো গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ব্রিটেনের সমুদ্র বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা UKMTO এই ঘটনার কথা প্রথম জানায়। তাদের মতে, ঘটনাটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। কারণ, এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এখানে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এই হামলার জন্য ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডকে দায়ী করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও ইরান সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে দেশের দুই আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম এই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘটনার আগে আমেরিকা একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ আটক করে। আমেরিকার দাবি, ওই জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপকরণ ছিল, যা চিন থেকে আনা হচ্ছিল। অন্যদিকে ইরান জানায়, ওই জাহাজে সাধারণ কর্মী ও তাদের পরিবার ছিল। এই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিলই।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে এখনও স্পষ্ট সম্মতি মেলেনি। বরং তারা কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। তবে কতদিন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলে নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। তাই আগামী দিনগুলোতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সবার।


