দিল্লি ও তার আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের হামলার ছক কষা হচ্ছিল। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা নিয়ে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা গুলি চালানো, গ্রেনেড হামলা এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে খুন করার পরিকল্পনা করছিল।
ধৃত দুই যুবকের নাম রাজবীর (২১) ও বিবেক বানজারা (১৯)। তারা দু’জনেই মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, এই দু’জনের যোগ রয়েছে পাকিস্তান-ভিত্তিক এক অপরাধ চক্রের সঙ্গে। সেই চক্রের মাথা শাহজাদ ভাট্টি নামে এক ব্যক্তি, যিনি বাইরে বসে পুরো পরিকল্পনা চালাচ্ছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই দুই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে তাদের সহজে টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাদের বিপজ্জনক কাজে জড়িয়ে ফেলা হয়। পুলিশ বলছে, রাজবীরকে এক ‘রানা ভাই’ নামে ব্যক্তির মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হত, যিনি ওই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসের শেষে এই চক্রান্তের খবর পায় স্পেশাল সেল। তারপর ৩১ মার্চ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। ১৬ এপ্রিল প্রথমে গোয়ালিয়রের ডাবরা এলাকা থেকে বিবেককে ধরা হয়। পরে তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ১৮ এপ্রিল দিল্লির সরাই কালে খান এলাকা থেকে রাজবীরকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, রাজবীর তখন দিল্লির একটি বড় হোটেলকে টার্গেট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ছ’টি গুলি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া দু’টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ও অডিও বার্তা পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মার্চ মাসে তাদের আহমেদাবাদে পাঠানো হয়েছিল অস্ত্র সংগ্রহ করতে। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে ৯ এপ্রিল তারা অমৃতসর যায়। সেখান থেকে তারা একটি পিস্তল, কিছু গুলি এবং নগদ টাকা জোগাড় করে।
এরপর পাঞ্জাবের জিরাকপুরে একটি ক্লাবে গুলি চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। ১১ এপ্রিল রাজবীর সেই চেষ্টা করলেও অস্ত্রে গোলমালের কারণে গুলি চালানো সম্ভব হয়নি। সেই সময় বিবেক পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখে এবং তা তাদের হ্যান্ডলারকে পাঠায়। পুলিশের মতে, এই দুই যুবক প্রথমে টাকার লোভে এই চক্রে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরে তারা বড় ধরনের অপরাধের পরিকল্পনার অংশ হয়ে যায়। এখন পুলিশ এই চক্রের অন্য সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।


