মার্কিন রাজনীতিতে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে ‘জঘন্য জায়গা’ বলে উল্লেখ করেন। বক্তব্যে তিনি ভারত-সহ কয়েকটি দেশকে অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেন। বিশেষ করে অভিবাসন ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কুরুচিকর মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ আমেরিকায় এসে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, আর সেই সূত্রেই নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত ও চীনের নাম উল্লেখ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এমনকি তিনি বলেন, এই ধরনের অভিবাসীরা আমেরিকার প্রতি দায়বদ্ধ নয়। তাঁর এই বক্তব্যে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং এটিকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে এই মন্তব্যের পরেও ভারতের তরফে তেমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রতিবেদন দেখেছেন, কিন্তু এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না। তাঁর এই সংযত প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, ভারত সরকার এই ধরনের মন্তব্যের যথাযথ প্রতিবাদ করছে না। তাদের মতে, দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে যখন একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের শীর্ষ নেতা এমন ভাষা ব্যবহার করেন, তখন তা উপেক্ষা করা ঠিক নয় বলেই মত তাদের।
অন্যদিকে, এই বিতর্কের মাঝেই মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রাম্প নাকি ভারতকে একটি মহান দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রয়েছে। এই মন্তব্য কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্যই ট্রাম্প বারবার এমন বক্তব্য রাখেন। তাঁর রাজনীতিতে এই ইস্যু বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


