একদিকে যখন কলকাতায় গঙ্গায় নৌকাভ্রমণে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী অন্যদিকে ফের আগুন জ্বলছে মণিপুরে। পাহাড়ি জেলাগুলিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুর চিত্র আবারও সামনে এল নতুন রক্তপাতের ঘটনায়। শুক্রবার সকালে উখরুল জেলায় পৃথক দুটি গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরপর হামলার জেরে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে মুল্লাম গ্রামে। ভোরের কিছুক্ষণ পরই প্রতিদ্বন্দ্বী উপজাতীয় সম্প্রদায়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। শুরুতে গুলি বিনিময় হলেও পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সকালের শেষ দিকে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে দু’টি দেহ উদ্ধার করে। নিহতদের শরীর গুলিতে ঝাঁঝরা ছিল এবং তাঁদের পরনে ছদ্মবেশের পোশাক থাকায় তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সংগঠিত জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্যরাই এই সংঘর্ষে জড়িত থাকতে পারে।
নিহতদের পরিচয় এল সিটলহোউ এবং পি হাওলাই বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, হামলার সময় গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত একাধিক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আগে থেকেই আতঙ্কে থাকা গ্রামবাসীদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘কুকি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস ট্রাস্ট’। সংগঠনের অভিযোগ, নিহত দু’জন ‘গ্রাম স্বেচ্ছাসেবক’ ছিলেন এবং পরিকল্পিতভাবে বাড়িগুলোতে আগুন লাগানো হয়েছে। দ্রুত এফআইআর দায়ের ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
এর মধ্যেই সামনে আসে দ্বিতীয় হামলার খবর। সিনাকাইথেই গ্রামের কাছে অতর্কিত গুলিবর্ষণে নিহত হন ২৯ বছর বয়সী এইচ জামাং নামে এক যুবক। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ‘তাংখুল নাগা লং’ সংগঠন। একই সঙ্গে সংগঠনটির অভিযোগ, সশস্ত্র কুকি ক্যাডাররাই এই হামলার সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, স্থানীয় নাগা গ্রামরক্ষীরা টহল দেওয়ার সময় আচমকা হামলার মুখে পড়েন।
উখরুল ও প্রতিবেশী কামজং জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পারস্পরিক অবিশ্বাস ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
কয়েক দিন আগেই পৃথক এক হামলায় দু’জন তাংখুল নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যাঁদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীও ছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দোষারোপ ও পাল্টা অভিযোগের পরিবেশ আরও তীব্র হয়েছে।
নতুন করে প্রাণহানি, ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়া এবং পরস্পরবিরোধী অভিযোগ—সব মিলিয়ে মণিপুরের এই পাহাড়ি অঞ্চল আবারও গভীর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সঙ্কটে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন উঠছে, সহিংসতার এই চক্র আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা আদৌ সম্ভব হবে কি না।


