ভোটের ফল ঘোষণার দিন সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় এক অদ্ভুত নীরবতা দেখা গিয়েছিল। অটোর সংখ্যা ছিল খুবই কম, বেশিরভাগ রুটে প্রায় কোনও যান চলাচলই ছিল না। তবে সন্ধ্যার পর কিছু রুটে ধীরে ধীরে পরিষেবা শুরু হলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ছিল ফাঁকা।
রাজ্যে দীর্ঘদিন পর সরকার পরিবর্তনের পরের দিন সকালে চিত্রটা কিছুটা বদলাতে শুরু করে। রাস্তায় অটোর সংখ্যা বাড়লেও নজর কাড়ে অন্য একটি বিষয়—অটোর রঙ ও প্রতীক। শহরের বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা থেকে শুরু করে রুবি, উল্টোডাঙা, বাগবাজার, বারাকপুর—প্রায় সর্বত্রই অটোর উপরে গেরুয়া পতাকা দেখা যায়।
বালিগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ডে দেখা যায়, চালকরা নিজেরাই নতুন পতাকা লাগাচ্ছেন। কোথাও আবার আবির খেলা, গান-বাজনা আর নাচের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন চলছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁরা সংগঠন বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একাধিক চালকের বক্তব্য, এতদিন বিভিন্ন সমস্যায় তাঁরা অসন্তুষ্ট ছিলেন। রুটে অতিরিক্ত অটো নামানো, পারমিট নিয়ে অভিযোগ, এবং পুলিশের জরিমানার চাপ—এসব নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে ছিল। সেই কারণেই এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন বলে দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, কিছু চালকের মতে, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সংগঠনের ভিতরে অসন্তোষই এই ফলাফলের অন্যতম কারণ। যাত্রীদেরও গত কিছুদিনে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


