বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ শনিবার দল ও সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেন। দিনহাটায় এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে বর্তমানে তাঁকে কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনন্ত মহারাজ বলেন, “আমি বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে এনেছি। এখন সরকারে এসেছে। কুকুরকে দাম দেয়, আমাকে দাম দেয় না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভার প্রসঙ্গও তুলে আনেন তিনি। অনন্ত মহারাজের দাবি, ওই সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে বলেছিলেন, “আপ চালাওগে বাঙ্গাল।” যদিও সেই প্রস্তাবে তিনি সম্মতি দেননি বলেও দাবি করেন। এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।
এদিন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, সরকার প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষা করছে না এবং সংবিধানের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে তাঁর অবদান থাকলেও বর্তমানে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
অনন্ত মহারাজ আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্য বারবার বিকৃত করে প্রচার করা হয়। তাঁর কথায়, এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “আমি একটা কথা বললেই সেটাকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়। আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে এমনভাবে প্রচার করা হয়, যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। এভাবেই আমাকে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, অনন্ত মহারাজের মন্তব্য প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, “উনি কী মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ না জেনে কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না।”
অনন্ত মহারাজের এই মন্তব্যের পর বিজেপির অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। যদিও তাঁর অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের তরফে এখনও বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


