উত্তর ২৪ পরগনার দমদম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এক শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্তকে রক্ষা করার চেষ্টা এবং ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর অভিযোগে এক প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর। পরিবারের দাবি, রবিবার বিকেলে এলাকার এক ব্যক্তি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। শিশুর হাতে একটি মোবাইল ফোনও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে কিছুটা দূরে নিয়ে যান। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার কথা সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এক স্থানীয় মহিলা দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাটির কিছু অংশ দেখেছেন। এরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্য ও বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘটনাটি নিয়ে আপসের পথ খোঁজার কথা বলেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করা হয়েছে এবং ঘটনার সাক্ষীদেরও চুপ থাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের উপর জোর দেন।
এদিকে শিশুটির পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দমদম থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্তের বয়স প্রায় চল্লিশ বছর। তিনি ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে দমদম থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে তদন্তে বাধা সৃষ্টি এবং অভিযুক্তকে আড়াল করার অভিযোগে প্রাক্তন কাউন্সিলরকে আটক করে পুলিশ। সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক এবং নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম সহায়তা দেওয়া হোক।


