মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলায় কেন–বেতোয়া নদী সংযোগ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রবিবার সকালে পুলিশ আন্দোলনস্থল থেকে অনশনকারীদের সরিয়ে দেওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশাসন জোরপূর্বক এই পদক্ষেপ করেছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ মানা হয়নি।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কুপি গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন দাবি তুলে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, নদী সংযোগ প্রকল্পের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জমি হারানোর মুখে পড়েছে। ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে কয়েকজন আন্দোলনকারী অনশনেও বসেছিলেন।
রবিবার ভোরের দিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আন্দোলনস্থলে পৌঁছায়। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের বক্তব্য, পুলিশ আসার খবর পেয়ে অনেকেই নদীর জলে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। পরে সেখান থেকেই তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অমিত ভাটনাগরসহ বহু প্রতিবাদকারীকে প্রশাসন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দিব্যা আহিরওয়ার বলেন, সকাল হওয়ার আগেই পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাচ্ছিলেন, কিন্তু তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধান না করে প্রশাসন আন্দোলন দমন করার পথ বেছে নিয়েছে।
অন্যদিকে জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দীর্ঘদিন অনশন করার ফলে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছিল। তাঁদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মীয়মাণ সেতু ও নদী এলাকার নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
কেন–বেতোয়া প্রকল্পকে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে জলসংকট কমানো এবং কৃষিকাজে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্পের প্রভাবে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ চলছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী কংগ্রেসের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের মতে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত ছিল। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


