ককরোচ জনতা পার্টির সংসদের অধিবেশন শুরুর দিন রাজধানী দিল্লিতে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য ভিড় এবং বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি ব্যস্ত মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়তে হলেও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ স্টেশনে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ ভবন এবং তার আশপাশের এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। যন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
এদিকে, বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে একটি সংগঠন সংসদমুখী পদযাত্রার ডাক দিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, নিজেদের দাবি দেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক শিক্ষাবিষয়ক বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সংসদ ভবনের আশপাশে বর্তমানে ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল বা সমাবেশ করার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে পুলিশ। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। যদিও অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা গিয়েছে।
এদিকে সোমবার যন্তর মন্তরে আরও একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক দলও সেখানে অংশ নিতে পারে বলে জানা গিয়েছে।


