তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ফের অস্থিরতার আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী ডিএমকে ও কংগ্রেসের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের দল টিভিকে-কে সমর্থন করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে এই সমর্থন নিঃশর্ত নয়। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভায় জায়গা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় পদ পাওয়ার দাবি তুলেছে দলটি। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই ডিএমকে শিবিরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বোঝাপড়া উপেক্ষা করে কংগ্রেস একতরফাভাবে নতুন পথ বেছে নিচ্ছে। এতে জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ডিএমকের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতের সমীকরণকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থানকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজ্যে নতুন শক্তির উত্থান এবং ভোটারদের মনোভাব বদলের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দলের একাংশের দাবি, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজয়ের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, যা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টিভিকে রাজ্যের রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা করে নিতে পেরেছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে দলটির প্রভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সমর্থন পেলে টিভিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোটা ঘটনাপ্রবাহ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে পুরনো জোটে দূরত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন সমীকরণ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ছবি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।


