দিল্লির মহিপালপুর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক হযরত খাজা সুলতান ঘোরি দরগাহকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বহু বছর ধরে এই দরগাহে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ ভিড় জমান। বিশেষ করে সন্ধ্যার নামাযের সময় এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এ বছর সেই পরিচিত ছবিতে বদল এসেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বহু দর্শনার্থী।মুসল্লিদের একাংশের দাবি, দরগাহ চত্বরে নামায আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা নামাজ পড়ার জন্য সেখানে গেলে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা দ্রুত জায়গা খালি করে দিতে বলেন। এর ফলে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ধর্মীয় প্রথায় এমন হস্তক্ষেপে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও জানান তাঁরা।প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। তাঁদের মতে, এই স্থান শুধু একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মিলনস্থল, যেখানে ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের মানুষ একসঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে বলে অভিযোগ।ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, নামায শেষ হওয়ার পরেও তাঁদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়নি। সাধারণত মানুষ কিছু সময় ধরে প্রার্থনার পর দরগাহ চত্বরে অবস্থান করেন। কিন্তু এবার সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেই দাবি। এতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, কেন হঠাৎ করে এই পরিবর্তন।আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মীর মন্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, তিনি জানিয়েছেন যে, উপর থেকে নির্দেশ রয়েছে, তাই এখানে নামায পড়ার অনুমতি নেই। এমনকি ওই কর্মী নাকি আরও দাবি করেন, জায়গাটি আগে অন্য ধর্মীয় স্থাপনা ছিল। এই মন্তব্যে উপস্থিত অনেকেই বিস্মিত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সরকারি কোনও স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
Popular Categories


