দিল্লির মঙ্গলপুরী শিল্প এলাকা (ফেজ-২)-তে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন একটি দরগা ভাঙাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বুধবার (৬ মে) ভোরে দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (DDA) পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ‘দরগা পাঁচ পীরান’ নামে পরিচিত ধর্মীয় স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারিত্বের অভিযোগে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের তিনটি দল সকাল ৬টা থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সম্ভাব্য প্রতিবাদ দমনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।
DDA-র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ধর্মীয় কমিটির অনুমোদন নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালেই দখলদারদের কাছে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তাদের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, “উচ্ছেদ অভিযানটি শুধুমাত্র দখলকৃত অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য কোনো স্থাপনা বা সম্পত্তির ক্ষতি করা হয়নি।”
অন্যদিকে দরগাটির তত্ত্বাবধায়ক মকবুল হাসান এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, দরগাটি ১০০ বছরেরও বেশি পুরনো এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁর পরিবারই এর দেখভাল করে আসছে।
হাসানের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের কোনো যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আদালতে যাওয়ার জন্য সময় চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দরগাহটির প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর, দিল্লি পুলিশ এবং DDA-র কর্মকর্তাদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযানটি উপাসনালয় সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বজায় থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করা হয়েছে।


