মণিপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী মাত্র ২৩ বছর বয়সে কাজের সন্ধানে বেঙ্গালুরুতে এসেছিলেন। সেখানে অমর এবং অংশু নামে এক দম্পতির বাড়িতে পরিচারিকা এবং তাঁদের সন্তানকে দেখাশোনার কাজ নেন তিনি। আইআইএম বেঙ্গালুরু হস্টেলের ভেতরেই ওই দম্পতি বসবাস করেন। অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে সেখানেই তরুণীর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল।
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, ওই তরুণীর ওপর হওয়া নির্যাতনের ধরণ ছিল শিউরে ওঠার মতো:
- সামান্য খুঁত পেলেই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ খেতে দেওয়া হত না।
- তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল যাতে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন।
- গত ১৫ এপ্রিল রাত আড়াইটে নাগাদ গৃহকর্তা অমর ওই তরুণীর চুলের মুঠি ধরে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গত ৪ মে সারাদিন খাবার না পেয়ে সহ্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন ওই তরুণী। প্রাণ বাঁচাতে তিনি প্রতিবেশীদের সাহায্য চান। তাঁদের ফোন থেকেই যোগাযোগ করেন নিজের কাকিমার সঙ্গে। ঘটনাচক্রে, তাঁর কাকিমা বেঙ্গালুরুতে ‘কুকি ছাত্র সংগঠন’-এর সভাপতি। ভাইঝির ওপর হওয়া এমন নির্মম অত্যাচারের কথা শুনেই তিনি দ্রুত থানায় গিয়ে এফআইআর (FIR) দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দম্পতিকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তরুণীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে।


