উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলায় এক দলিত কলেজ ছাত্রের মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সহপাঠীদের অত্যাচার এবং অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্র আত্মঘাতী হয়েছেন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিভিন্ন দলিত সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মৃত ছাত্রের নাম অতীন কুমার। তিনি বিএসসি-র ছাত্র ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের একমাত্র সন্তান অতীনকে ঘিরেই বাবা-মায়ের অনেক আশা ছিল। তাঁর বাবা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসারের দায়িত্ব ভবিষ্যতে অতীনের উপরই পড়ার কথা ছিল। পরিবারের দাবি, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীনের ঘর থেকে একটি চিঠি উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনি নিজের উপর হওয়া মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথা লিখে গিয়েছেন। অভিযোগ, তাঁর জাত পরিচয় জানার পর কয়েকজন ছাত্র নিয়মিত তাঁকে অপমান করত এবং মারধরও করা হত। ওই চিঠির ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগে একটি লাইব্রেরি কক্ষে অতীনের উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানিয়েছেন এলাকার মানুষজন। এমনকি হাতে আঙুল ভেঙে যাওয়ার কথাও সামনে এসেছে। ঘটনার পর থেকেই অতীন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সিকোহাবাদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় দলিত সংগঠন আজাদ সমাজ পার্টির প্রতিনিধিরা। সংগঠনের এক নেতা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, একজন ছাত্রের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত নৃশংস। কারও জাত বা পরিচয়ের কারণে এমন নির্যাতন মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দ্রুত ও কড়া শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, এটি সত্যিই জাতিগত বিদ্বেষ থেকে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন। তবে এই ঘটনায় ফের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতপাত ও বৈষম্যের প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।


