উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে তাঁর বক্তব্য সামনে আসতেই বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই ঈদ-উল-আযহা পালিত হতে চলেছে। তার আগে এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাস্তা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য তৈরি হয়েছে, সেখানে যান চলাচল বন্ধ করে কোনও ধর্মীয় কাজ করা উচিত নয়। তিনি জানান, রাস্তায় নামাজ পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হলে প্রশাসন তা মেনে নেবে না। তাঁর মতে, যদি কোনও জায়গায় পর্যাপ্ত পরিসর না থাকে, তাহলে পালাক্রমে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই আপত্তি জানায় অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির ভাষা আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল। বোর্ডের মুখপাত্র সৈয়দ কাসিম রসুল ইলিয়াস বলেন, শুধুমাত্র মুসলিমদের ধর্মীয় সমাবেশ নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, অথচ অন্যান্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা উৎসবের সময় রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে একইভাবে আলোচনা করা হয় না।
তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় রাস্তায় ভিড় বা যানজট তৈরি হয়। তাই শুধুমাত্র এক সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানকে আলাদা করে দেখলে তা বৈষম্যের বার্তা দেয়। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মন্তব্য সমাজে অশান্তি বাড়াতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় বিষয়কে সামনে এনে রাজনৈতিক লাভের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, প্রশাসনের উচিত ছিল সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা না হওয়া নিশ্চিত করা। দলের নেতাদের বক্তব্য, কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানই এমনভাবে হওয়া উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন।
এই বিতর্কের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগে এমন মন্তব্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মতে, সংবেদনশীল বিষয়গুলিতে রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে পারস্পরিক আলোচনা ও প্রশাসনিক সহযোগিতার পথেই সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।


