দীর্ঘদিন পর অবশেষে সাময়িক স্বস্তি পেলেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খলিদ। শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে। মায়ের অস্ত্রোপচারের কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত জেল থেকে বাইরে থাকতে পারবেন উমর খলিদ। এই সময়ের মধ্যে তিনি পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ পাবেন। কয়েক বছর ধরে জেলে থাকা উমরের জন্য এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবীরা।
২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ভয়াবহ অশান্তির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরে তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ তোলে যে ওই দাঙ্গার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল। সেই মামলায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ-র অধীনে গ্রেফতার করা হয় উমর খলিদকে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, আন্দোলনের আড়ালে হিংসা ছড়ানোর পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উমর এবং তাঁর সমর্থকেরা।
গ্রেফতারের পর থেকে দীর্ঘ সময় জেলেই রয়েছেন তিনি। এর আগে কয়েকবার বিশেষ অনুমতিতে সাময়িকভাবে বাইরে এলেও নিয়মিত জামিনের আবেদন বারবার খারিজ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন যাতে মায়ের চিকিৎসার সময় পরিবারের পাশে থাকতে পারেন। তিনি ২২ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন চেয়েছিলেন।
এর আগে ট্রায়াল কোর্টেও একই কারণে আবেদন করেছিলেন উমর খলিদ। সেখানে তিনি জানান, মায়ের অপারেশন এবং পরিবারের একটি শোকসভায় যোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের মতে, যে কারণ দেখানো হয়েছিল তা অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য যথেষ্ট নয়।
তবে এই ঘটনার মধ্যে জামিন নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কিছু পর্যবেক্ষণ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কোনও ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলে আটকে রাখা সাধারণ নিয়ম হতে পারে না। আদালতের মতে, জামিন পাওয়াই মূল নীতি হওয়া উচিত, আর জেলে রাখা ব্যতিক্রম। ইউএপিএ মামলার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেছিল শীর্ষ আদালত। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত উমর খলিদের পরিবারের কাছে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও মামলার মূল আইনি লড়াই এখনও চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।


