তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী যোশেফ বিজয় থালাপতির মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন জে মুহাম্মদ পারভেজ। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের পর নতুন করে ২৩ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় ১০ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ জন মন্ত্রী দায়িত্বে এলেন। বিধানসভার আসন সংখ্যার ভিত্তিতে আরও দু’জন মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তরুণ নেতা জে মুহাম্মদ পারভেজ। তিনি এবার বিজয়ের দল টিভিকে-র হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি কংগ্রেস প্রার্থীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। তাঁকে শ্রমিক কল্যাণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তরুণ মুখ হিসেবে পারভেজকে সামনে এনে যুব সমাজের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে সরকার।
রাজনীতিতে আসার আগে থেকেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন পারভেজ। তিনি পুরসভার কাউন্সিলর হিসেবেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি আইন নিয়েও পড়াশোনা করেছেন। ২০১৯ সালে জাতীয় আইন কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই তাঁকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা এএম সাহাজানও মন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁর জন্য সংখ্যালঘু ও হজ দফতর রাখা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে তিনি বিজয়ের দলের প্রার্থী আজহারউদ্দিনকে হারিয়ে জয়ী হন। মুসলিম লিগ এবার দুটি আসনে জয় পেয়েছে। আগে তারা ডিএমকে জোটের শরিক ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তারা অবস্থান বদলে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজয়ের দলকে সমর্থন করে। সেই রাজনৈতিক সমীকরণের ফল হিসেবেই মুসলিম লিগের প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এবার বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-কে পিছনে ফেলে বিজয় থালাপতির দল সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। যদিও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা পুরোপুরি না পাওয়ায় কংগ্রেস এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর এখন নজর থাকবে এই সরকার কতটা স্থায়ী ও কার্যকর হয় তার ওপর।


