দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যেই আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করল মোদি সরকার। পেট্রল-ডিজেল ও সোনা কেনার ওপর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ চাপানোর পর, এবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বুঝেশুনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই একের পর এক বার্তায় সাধারণ মানুষের মনে এক চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে কেন্দ্র, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে একদিকে টাকার দাম রেকর্ড স্তরে ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এর ওপর যোগ হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, যা মোদি সরকারের অদূরদর্শিতা ও দুর্বল অর্থনৈতিক নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।
বর্তমানে উত্তর ও পশ্চিম ভারতে তাপমাত্রা ৪৬ থেকে ৪৮ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। কলকাতা-সহ পূর্ব ভারতেও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে পরিস্থিতি অসহ্য হয়ে উঠেছে। এই আগুনে গরমে মানুষ যখন একটু স্বস্তির জন্য এসি বা ফ্যান চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক হাত তুলে দিয়ে বলছে যে, দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে হবে। মোদি সরকারের দাবি, গত কয়েকদিনে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছর গরম পড়বে এবং বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। তা সত্ত্বেও সরকার কেন আগে থেকে কোনও পরিকাঠামো বা ব্যাক-আপ প্ল্যান তৈরি রাখল না?
দেশের এই সংকটের আসল কারণ লুকিয়ে রয়েছে কয়লা ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতার মধ্যে। রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের কারণে মানুষ আবার কয়লার দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে কয়লার জোগান কমছে। দেশের প্রধান ১৮৯টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার মজুত ভাণ্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। গত বছর যেখানে মে মাসে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টন কয়লা মজুত ছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ কোটি ১০ লক্ষ টনে। সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির মতে, বর্তমান চাহিদা মেটাতে অন্তত ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন কয়লা মজুত থাকা দরকার ছিল। এই বিপুল ঘাটতি প্রমাণ করে যে, দেশের বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের সুরক্ষায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খরচ কমানোর কথা বলছেন, আর অন্যদিকে বিদ্যুৎ মন্ত্রক বলছে যে তারা চাহিদা মেটাতে সক্ষম, অথচ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযত হতে বলা হচ্ছে। সরকারের এই দ্বিমুখী নীতি ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থাকেই প্রকাশ করে দিচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও সম্পদ আজ ঠিক কোন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তা নিয়ে বিরোধীরা মোদি সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করছেন। দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাব এবং ভুল নীতির কারণেই আজ সাধারণ মানুষকে তীব্র গরমেও বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।


