Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

‘গরমে বরফের চেয়েও দ্রুত গলছে তৃণমূল’ – ৮০ আসন নিয়েও কার্যত ‘উবে’ যাওয়া তৃণমূলকে কটাক্ষ সিপিএমের

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) দ্রুত জনসমর্থন হারাচ্ছে বলে দাবি করল সিপিআই(এম)। দলের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, এই গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে “বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে” তৃণমূল, আর সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বামেরা।

সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলিম বলেন, “আর এখন, যেহেতু এই তীব্র গরমে তৃণমূল কংগ্রেস বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে, তাই এখন আমাদের কাজ হলো—কেবল তাত্ত্বিকভাবেই নয়, বরং কার্যতও—পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।”

তিনি দাবি করেন, রাজ্যে আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শগত লড়াইয়ে বামপন্থী দলগুলো, বিশেষ করে সিপিআই(এম), ইতিমধ্যেই “অগ্রভাগে” রয়েছে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী রাজনৈতিক পরিবেশকে পুনরুদ্ধার করা এবং মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।”

মহম্মদ সেলিমের দাবি, শুধু তাঁর দল নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে, সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্টই আগামী দিনে তৃণমূলের জায়গা নিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ ও গুন্ডাদের ব্যবহার করে তৃণমূল যে সন্ত্রাস চালিয়েছে, তা এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। আর সেই শূন্যতার সুযোগ নিয়েই রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরএসএসের বিস্তার ও বিকাশের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”

সিপিআই(এম) দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী শক্তিকে কোণঠাসা করতে তৃণমূল ও বিজেপি—দুই দলই ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং এর মাধ্যমে রাজ্যে এক ধরনের কৃত্রিম দ্বিমেরু রাজনীতি তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ফলাফল এবং সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম দাবি করেন, দলটির সাংগঠনিক ভিত ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, সেই শূন্যস্থান পূরণে প্রস্তুত বামপন্থীরাই।

রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের ওপর ভর করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এখন শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইন-শৃঙ্খলা, নারীর নিরাপত্তা, ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং তোলাবাজির মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

সেলিম আরও জানান, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের দাবিকে বাম দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তারা সমাজের দরিদ্রতম মানুষের জীবিকার ওপর আঘাত হানছে।” সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্নেও সিপিআই(এম) লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories