টানা বৃষ্টি আর নদীর জল বাড়ার জেরে ফের দুর্ভোগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার মানুষ। বীরভূম থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর—একাধিক জেলায় জল ঢুকে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও নদীর পাড় ভেঙে বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে, কোথাও আবার বাঁধে ধস নেমে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের লোবা গ্রাম পঞ্চায়েতের পলাশডাঙা ও দেবীপুর চর এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। হিংলো নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীর পাড়ে থাকা ১৮টি বাড়ি ভেঙে জলে চলে যায়। পলাশডাঙার আকুরেপাড়ায় ১৫টি এবং দেবীপুর চরে আরও তিনটি পরিবারের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু বসতবাড়ি নয়, চাষের জমিও নদীর জলে চলে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা, বিডিও শুভজিৎ চ্যাটার্জী এবং থানার ওসি অমিত প্রামাণিক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে স্থানীয় স্কুলেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, শিলাবতী নদীর জল বেড়ে ফের জলমগ্ন ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘাটাল পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডের নিচু এলাকায় জল ঢুকেছে। আরগোড়া এলাকায় রাজ্য সড়কের উপরেও জল জমেছে। দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও জল ঢুকে পড়ায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ঘাটাল ব্লকের অজবনগর-সহ বেশ কিছু নিচু এলাকাতেও একই ছবি। কোথাও কোথাও রাস্তা ডুবে যাওয়ায় নৌকা বা ডিঙি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।দাসপুরের সামাট গ্রামে কাঁসাই নদীর বাঁধের একাংশে ধস নেমেছে। নদীর জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। কয়েক বছর আগের বাঁধ ভাঙার স্মৃতি এখনও তাঁদের মনে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘাটালের বাসিন্দাদের ক্ষোভ, দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার প্ল্যানের কথা শোনা গেলেও জলযন্ত্রণা কমেনি। পুজোর আগে ফের জল ঢোকায় বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।এদিকে স্থানীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ঘাটালের সাংসদ দেবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীদের একাংশ। তাঁদের কটাক্ষ, ‘দাদাগিরি’ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দুর্যোগের সময়ে তাঁকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না।
দাদাগিরি’তে ব্যস্ত ঘাটালের সাংসদ দেব! বাঁধ ভেঙে বাড়ছে জলযন্ত্রণ, নৌকায় ঘাটালবাসীর যাতায়াত
Popular Categories

