ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার মতো সেও প্রস্তুতি নিয়েছিল। ভালো ফলের আশায় নিট পরীক্ষায় বসেছিল। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ১৮ বছরের এক তরুণী। রবিবার কর্নাটকের কালবুরাগি জেলায় নিজের বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাওয়ার হতাশা থেকেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রীর নাম ভাগ্যশ্রী। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, ছোট থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গত ২ মে সারা দেশের প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ভাগ্যশ্রীও নিট পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবার জানিয়েছে, পরীক্ষা দিয়ে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, ভালো ফল করবেন। কিন্তু পরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা এনটিএ পরীক্ষাটি বাতিল করে দেয়। নতুন করে পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হয় আগামী ২ জুন।
পরিবারের অভিযোগ, পুনরায় পরীক্ষার খবর শোনার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন ভাগ্যশ্রী। যদিও বাইরে থেকে সেটা খুব একটা বোঝা যায়নি। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের উপর এতটা চাপ তৈরি হয়েছিল, তা তাঁরা বুঝতেই পারেননি। তিনি বলেন, প্রথম পরীক্ষাটি ভালো হওয়ায় মেয়ের মধ্যে আশা ছিল। কিন্তু আবার একই পরীক্ষা দিতে হবে শুনে সে খুব চিন্তায় পড়ে যায়।
রবিবার নিজেদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে নিট পরীক্ষা বাতিলকে ঘিরে একের পর এক উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে আসছে। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। রাজস্থানের এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও আলোড়ন ফেলেছিল। পরিবারের দাবি ছিল, সেই ছাত্রও পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তিনি গভীর হতাশায় ভুগছিলেন।
শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের উপর মানসিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেক তরুণ-তরুণীর উপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। তাই শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়, পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


