দেশজুড়ে আম জনতার পকেট কেটে ফের একধাক্কায় বাড়ানো হলো পেট্রল ও ডিজেলের দাম। শনিবারের পর সোমবার দেশজুড়ে লিটার প্রতি জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। রাজধানী দিল্লিতে আড়াই টাকারও বেশি দাম বাড়ার ফলে পেট্রল ইতিমধ্যেই সেঞ্চুরি পার করে ১০২.১২ টাকায় পৌঁছেছে এবং ডিজেলও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ৯৫.২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লোকসভা ভোটের আগে ঘটা করে দাম কমানোর নাটক করলেও, ক্ষমতা বজায় রাখতেই মোদী সরকার যে আসল স্বৈরাচারী রূপ ধরে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপাচ্ছে, এই দফায় দফায় দাম বাড়ার ঘটনা তারই প্রমাণ। গত মাত্র দশ দিনেই দেশে পেট্রলের দাম লিটার পিছু ৭ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
কলকাতাতেও এই মূল্যবৃদ্ধির কোপ এসে পড়েছে প্রবলভাবে। তিলোত্তমায় লিটার প্রতি ২.৮৭ টাকা বেড়ে পেট্রলের নতুন দাম হয়েছে ১১৩.৫১ টাকা এবং ২.৮০ টাকা বৃদ্ধির পর ডিজেলের দাম এসে ঠেকেছে ৯৯.৮২ টাকায়, যা প্রায় একশো ছুঁইছুঁই। একই চিত্র দেশের বাকি রাজ্য গুলোতেও। মুম্বইয়ে পেট্রল ১১১.২১ টাকা এবং ডিজেল ৯৭.৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চেন্নাইয়েও পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যথাক্রমে ১০৭.৭৭ টাকা এবং ৯৯.৫৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানির এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির ফলে শুধু যে গাড়ি চালানো বা পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়ছে তা নয়, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুধ, রুটি, সবজি সহ সমস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়তে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতকে ঢাল করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করার পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, এটা ঠিক। কিন্তু এই বিশ্বজনীন সংকটের মাঝে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আম জনতাকে সুরাহা দেওয়ার বদলে উল্টে জ্বালানি সাশ্রয়ের জ্ঞান দিচ্ছেন এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে সাধারণ মানুষকে সোনা না কেনার মতো আজব পরামর্শ দিচ্ছেন, অথচ এই সরকার সাধারণ মানুষের ওপর থেকে জ্বালানি তেলের চড়া এক্সাইজ ডিউটি বা শুল্ক কমানোর কোনো সদিচ্ছাই দেখাচ্ছে না।
ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম ও হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি দাবি করছে যে, দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করার ফলে তাদের দৈনিক প্রায় ১০০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছিল। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই নাকি তারা এখন দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, শনিবারই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং এই দাম বৃদ্ধি নাকি স্রেফ স্থানীয় ও সাময়িক সমস্যা। কিন্তু সোমবারের এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি তেল সংস্থাগুলির সেই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে। কর্পোরেট তোষণকারী নীতির মাধ্যমে যেভাবে দেশীয় তেল সংস্থাগুলোকে দেউলিয়া করে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা বর্তমান বিজেপি সরকারের জনবিরোধী ও গণবিরোধী চরিত্রের নগ্ন রূপটিই বারবার সাধারণের সামনে উন্মোচিত করে দিচ্ছে।


