কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বেআইনি নির্মাণ ও সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি রাজস্থানের বিকানেরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে যেসব অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে, সেগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সেই সব নির্মাণ ভেঙে ফেলতেও হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকাগুলিতে অবৈধ নির্মাণ, ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। সেই কারণেই এবার আরও কঠোর নীতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।এই দায়িত্ব মূলত সীমান্ত সংলগ্ন জেলার জেলাশাসকদের উপরই দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বলা হয়েছে, এলাকায় কোনও বেআইনি নির্মাণ থাকলে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে আর্থিক লেনদেনের উপরও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির আয় ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় ভুয়ো সংস্থা বা কাগজে-কলমে থাকা কোম্পানিগুলির উপরও কড়া নজর রাখা হবে। নকল আধার কার্ড বা জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কেউ যাতে বেআইনি কাজ করতে না পারে, সে দিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান রুখতেও বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।মঙ্গলবার বিকানেরে হওয়া ওই বৈঠকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সীমান্ত লাগোয়া পাঁচটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও ডাকা হয়েছিল। বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রীগঙ্গানগর এবং ফালোদির প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন অমিত শাহ।বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করা, সন্দেহজনক গতিবিধি চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই নির্দেশের পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শীঘ্রই অভিযান শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের অনুমান।
Popular Categories


