Saturday, September 5, 2026
28 C
Kolkata

‘আমি আর রাজনীতি করবো না’ – তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই বেসুরো প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী

রাজনীতি থেকে কার্যত অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি আর রাজনীতি করব না। মানুষের রায় মেনে নিয়েছি।”

২০১১ সালে হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। পরবর্তীতে তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে আসেন তিনি। তৃতীয়বার তৃণমূল সরকার গঠনের পর ২০২২ সালের অগস্ট মাসে তাঁকে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকাল নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, তাঁর আমলে পরিবহণ ব্যবস্থায় উন্নতির চেয়ে সমস্যাই বেড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন রুটে সরকারি বাসের সংখ্যা কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়নি বলে সমালোচকদের দাবি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্নেহাশিস। তবে বিজেপি প্রার্থী প্রসেনজিৎ বাগের কাছে মাত্র ৮৬২ ভোটে পরাজিত হন তিনি। সেই পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। বুধবারের মন্তব্যে সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই দলের অন্দরে প্রকাশ্যে ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের তিন জন সহকারী দলনেতার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন আর এক বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা।

সূত্রের খবর, ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বুধবার বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কেরা কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠক করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনার পর তাঁরা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের দাবি ও সমর্থনের নথি খতিয়ে দেখে স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পাশাপাশি অন্যান্য পদাধিকারীদেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্বীকৃতি পাওয়ার পর নতুন বিরোধী দলনেতার জন্য বরাদ্দ বিধানসভার কক্ষ খুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই সাংবাদিক বৈঠক করেন ঋতব্রত এবং তাঁর সমর্থক বিধায়কেরা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Hot this week

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

‘আমরা কি কারও গোলাম?’ টাটাদের ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার রাষ্ট্রপতির

কেনিয়ায় বড়সড় ধাক্কার মুখে টাটা গোষ্ঠী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সামলানোর...

Related Articles

Popular Categories